উপসর্গ ছাড়া কিভাবে বুঝবেন শ্বাসকষ্টের আগাম খবর এবং আপনার শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা।

একটি ভয়ঙ্কর তথ্য দিয়ে লেখাটা শুরু করা যাক। আপনি কি জানেন – যখন একজন মানুষের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকে, তখন শুরুতে অনেকেই বুঝতে পারে না; আর যখন বুঝতে পারে তখন অনেক ক্ষেত্রেই আর কিছুই করার থাকে না। একটি সত্য ঘটনা বলা যাক। সম্প্রতি নরওয়েতে একজন লোক কোভিড-১৯ আক্রান্ত হন এবং তার দেহে অক্সিজেনের মাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে অথচ তিনি দিব্যি রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের সাথে হাসি-খুশি আড্ডা দিচ্ছিলেন। অতঃপর একজন ডাক্তার ওনার বাড়িতে আসেন এবং খেয়াল করেন যে উনার মুখটিতে হালকা নীলচে ভাব। সন্দেহবশত যখন তার অক্সিজেন টেষ্ট করানো হল তখন দেখা গেল তা অসম্ভব মাত্রায় কম। আপনি জানলে অবাক হবেন যে সেই মূহুর্তে উনার দেহে মাত্র ৬৬% অক্সিজেন- পাওয়া গিয়েছিল এবং পরবর্তিতে উনাকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হল যে বর্তমান মহামারী পরিস্থিতিতে অনেকে বুঝতেই পারছেন না যে তিনি কোভিড-১৯ আক্রান্ত।এরকম অবস্থায় যদি কোন উপসর্গ না-ই থাকে তবে বুঝতে পারার শুধুমাত্র একটি উপায়-ই আমাদের জন্য খোলা আছে। ৩ সে উপায়টি কি? আমাদের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বিভিন্ন সমস্যার দরুন কমে যেতে থাকে কিন্তু জেনে রাখুন- কোভিড আক্রান্ত ব্যাক্তির বেলায় এই ঘটনাটি ঘটে খুব দ্রুত। নিচের চার্টটি আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে যে- ক্সিজেনের মাত্রা কত এর নিচে নামলে আপনি বুঝবেন ঝুকিপূর্ন।

সুস্থ

৯৯% থেকে ১০০%

সমস্যা

৯২% থেকে ৯৭%

অসুস্থ

৮৮% থেকে ৯২%

ঝুঁকিপূর্ন

৮৮% বা এর কম

খানে কিছু ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে যে, কোন কোন ক্ষেত্রে একজন সাধারন মানুষের অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় কিছু কম-বেশী, যেমন ৯৩% বা ৯৬% হতে পারে সেক্ষেত্রে উনার জন্য সেটিই স্বাবাবিক। ৪ আবার ধরুন আপনি একটি শীতল ঘরে অবস্থান করছেন অথবা আপনি যে হাতের আঙ্গুল দিয়ে ক্সিজেনের মাত্রা মেপেছেন সে আঙ্গুলটি ঠান্ডা ছিল বা টেষ্টের কিছুক্ষন পূর্বে আপনি শারীরিক পরিশ্রম করেছেন ঠিক ঐ মুহুর্তগুলোতে আপনার দেহে ঙীু- এর মাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে কিন্তু তা কখনই আপনার স্বাভবিক মাত্রা হতে ৩% এর বেশী নয়। যেমন ১০০% থেকে ৯৭% এবং এই ব্যাপারটি খুবই স্বাভাবিক এবং এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কিভাবে খুব সহজেই এই ক্সিজেনের পরিমান জানবেন? ক্সিমিটার (ছবি) হ্যা এই ছোট মেশিনটি আপনার জীবন ঝুকি থেকে আপনাকে সতর্ক করতে পারে।

অক্সিমিটার ব্যাবহার বিধি

১। আপনার হাতের মাঝেন আঙ্গুলটির মাথায় ক্লিপটি সেট করুন।

২। যতটুকু সম্ভব আঙ্গুলটি ঈষরঢ় এর শেষ মাথা পর্যন্ত নিন।

৩। খেয়াল রাখবেন যেন ঐ আঙ্গুলের নখে নেইল পলিশ না থাকে এবং নখটি ছোট থাকে।

৪। এবার অন বাটনে চাপুন এবং কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষে করুন।

৫ খুব সহজেই সুঁই এর আঘাত ছাড়া আপনি জেনে গেলেন আপনি কতটা সুস্থ আছেন! 

বিঃদ্রঃ যদি দেখেন আপনার অক্সিজেনের পরিমান ক্রমশ কমছে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিন। এমতাবস্থায় রোগীর ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন হতে পারে। আতঙ্ক থেকে মুক্ত থাকুন , প্রয়োজনে বার বার টেষ্ট করুন ,  ভয়কে জয় করুন। ভেবে দেখবেন যেখানে একজন মুমূর্ষ রোগীর ১ সেকেন্ডের মূল্য অনেক, সেখানে এই মেশিনটি আপনাকে ঐ অবস্থায় যাওয়ার অনেক পূর্বেই সতর্ক করবে এবং আপনি খুব সহজেই ঐ সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।একটি সময় উপযোগী সঠিক জিনিস যা আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে রাখবে চিন্তা মুক্ত। ভাল থাকুন সুস্থ্য থাকুন, ঘরে রাখুন পালস্ অক্সিমিটার।

© Copyright All Right Reserved Doctor Check.